• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৯ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
“ভালো থেকো আমার না হওয়া মহারানী” চলন্ত ট্রাকে আড়াই ঘন্টা ঝুলে ৩২ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ করলেন সিপাহি জয়পুরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার

সৈয়দপুরে ঋণের প্রলোভন দিয়ে সঞ্চয়ের টাকা হাতিয়ে উধাও ভুয়া এনজিও

সিসি নিউজ।। নীলফামারীর সৈয়দপুরে উদ্ভাসিত সামাজিক সংস্থা বাংলাদেশ (উসাস) নামের একটি ভুয়া এনজিও’র দুই কর্মকর্তা সহজশর্তে মোটা অংকের ঋণের প্রলোভন দেখিয়ে নারী সদস্যদের প্রায় পাঁচ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়েছে। প্রতারণার শিকার মহিলা সদস্যরা সঞ্চয়ের টাকা ফিরে পেতে প্রতিদিন এনজিওটি’র কার্যালয়ে ধর্ণা দিচ্ছেন। কিন্তু এনজিওটির আঞ্চলিক কার্যালয়ে তালা ঝুলতে দেখে ফিরে যাচ্ছেন তারা। আর এ ঘটনায় নুর মোহাম্মদ নামের এক মাঠকর্মী বাদী হয়ে এনজিওটির কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয়দানকারী পলাতক আমিনুল ইসলাম (৩৫) ও আব্দুর রহমানের (৩৬) বিরুদ্ধে সৈয়দপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি ফেব্রুয়ারি মাসে সৈয়দপুর শহরের গোলাহাটে উদ্ভাসিত সামাজিক সংস্থা বাংলাদেশ (উসাস) নামের একটি এনজিও’র আঞ্চলিক অফিস খোলা হয়। আর ওই এলাকার জনৈক উজ্জ্বল নামের এক ব্যক্তির বাড়ি ভাড়ায় নিয়ে অফিসের কার্যক্রম শুরু করে জনৈক আমিনুল ইসলাম এবং আব্দুর রহমান নামের দুইজন কর্মকর্তা। এদের মধ্যে আমিনুল ইসলাম এরিয়া ম্যানেজার এবং আব্দুর রহমান ব্র্যাঞ্চ ম্যানেজার হিসেবে পরিচয় দেন। এছাড়াও নীলফামারী সদরে সংগলশী উত্তরা ইপিজেড এলাকায়ও সংস্থার একটি শাখা কার্যালয় খোলা হয়। এরপর তারা সংগলশী এলাকার জনৈক নুর মোহাম্মদ ও পঞ্চপুকুর এলাকার কামরুন্নাহার নামের দুইজনকে মাঠকর্মী (ক্রেডিট অফিসার) হিসেবে নিয়োগ দেয়। পরবর্তীতে ওই ভুয়া এনজিও দুই কর্মকর্তা তাদের নিয়োগকৃত মাঠকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের কাচারীপাড়া, নাপিতপাড়া, মাছুয়াপড়া,শহরের কুন্দল কলেজপাড়া,কাজীপাড়াসহ নীলফামারীর বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে মহিলাদের নিয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দল গঠনের মাধ্যমে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভূক্ত করেন। এরপর মহিলাদের সদস্য অন্তর্ভূক্তির পর তাদের মধ্যে সহজশর্তে ঋণের প্রলোভন দেখায়। আর তাদের প্রস্তাবিত ঋণের বিপরীতে শতকরা ১০ টাকা হারে সঞ্চয় হিসেবে দিতে বলা হয়। সহজ সরল মহিলারা তাদের কথায় বিশ্বাস করে সঞ্চয় হিসেবে সর্বনিন্ম তিন হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়ের অর্থ তুলে দেন ওই ভুয়া এনজিও দুই কর্মকর্তার হাতে।
উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের কাচারীপাড়ার মো. লুৎফর রহমানর স্ত্রী নুরনাহার জানান, ওই এনজিও দুই কর্মকর্তার কথা সরল মনে বিশ্বাস করে এক লাখ টাকা ঋণের জন্য সঞ্চয় হিসেবে ১০ হাজার টাকা তাদের হাতে তুলে দেই। এখন শুনতে পেরেছি ওই এনজিও কর্মকর্তারা অফিসে তালা ঝুলিয়ে পালিয়ে গেছেন। ঋণের জন্য আমি অন্যের কাছ থেকে টাকা ধার করে নিয়ে ওই সঞ্চয়ের টাকা দিয়েছে। আশা ছিল ঋণের তুলে ধারের টাকা পরিশোধ কররো। এখন আমি ধারের টাকা কিভাবে শোধ দিব ভেবেচিন্তে কুলকিনারা পাচ্ছি না।
নুর নাহারের মতো একই এলাকার লাভলী, রোকেয়া, কুন্দল ডাঙ্গাপাড়ার আইরিন, মিনতি, রওশন, শেফালি, মর্জিনা লিপিসহ আরো অনেকেই সঞ্চয়ের ১০ হাজার টাকা করে তুলে দেন ওই ভুয়া এনজিও দুই কর্মকর্তার হাতে। এভাবে সৈয়দপুর ও নীলফামারীর সদরে বিভিন্ন এলাকার কয়েক শ’ মহিলা সদস্যের কাছ থেকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় ভুয়া এনজিওর দুই কর্মকর্তা।
পরবর্তীতে ওই ভুয়া এনজিও’র কর্মকর্তাদের গতিবিধি ও কর্মকান্ডে মাঠ কর্মী নুর মোহাম্মদের মনে সন্দেহের উদ্রেক হয়। তিনি বিভিন্নভাবে ওই এনজিও’র বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন এনজিওটি ভুয়া এবং দুই কর্মকর্তা প্রতারক। পরবর্তীতে ওই মাঠ কর্মী গত ১২ ফেব্রুয়ারি সংস্থার সৈয়দপুর শহরের গোলাহাট এলাকার আঞ্চলিক অফিসে ছুঁটে যান। সেখানে গিয়ে অফিস তালাবদ্ধ দেখতে পান। এরপর মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিন্তু মোবাইলে তাদের না পেয়ে বাধ্য হয়ে মাঠকর্মী নুর মোহাম্মদ গত ১৩ ফেব্রুয়ারি সৈয়দপুর থানায় ভুয়া এনজিওর দুই কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম ও আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।
মাঠকর্মী নুর মোহাম্মদ জানান, চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম দিকে ভুয়া এনজিওর ওই দুই কর্মকর্তার সঙ্গে উত্তরা ইপিজেড এলাকায় আকস্মিক আমার পরিচয় ঘটে। তারা আমার পারিবারিক অস্বচ্ছতার বিষয়টি জেনে আমাকে তাদের এনজিওতে কাজ করতে বলেন। আমিও তাদের কথায় রাজী হয়। এরপর তারা আমার পরীক্ষা নিয়ে মাঠকর্মী হিসেবে আমাকে নিয়োগ দেয়। নিয়োগপত্রে আমার বেতন সাড়ে ১৩ হাজার টাকা উল্লেখ করা হয়। পরবর্তীতে তাদের প্রতারণার বিষয়টি জানতে পারি। এরপর সবাইকে সর্তক করি। আমাকে নিয়োগ দিয়ে জামানত হিসেবে ১৫ হাজার টাকা দিতে বলেছিল তারা। আমি তিন হাজার টাকা দিয়েছি। বাকি টাকা পরে দিব বলে তাদের বলেছি। এখন দেখি আমিও প্রতারণার শিকার হয়েছি। এখন তাদের কোন খোঁজখবর মিলছে না। মোবাইল ফোন বন্ধ, অফিসেও তালা ঝুলছে।
সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মো. মফিজুল হক ভুয়া এনজিও’র দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ঘটনাটি তদন্তের জন্য একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে আইনী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানান তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

আর্কাইভ